গদ্যের মুক্তি/ প্রবীর রায়
মুক্ত গদ্যের মধ্যে কী ঘটে আসলে? পদ্য থেকে গদ্যের মুক্তি না গদ্য থেকে পদ্যের মুক্তি? পদ্যে কিছু অনুশাসন থাকে কিন্তু গদ্য কবিতা অনেকটাই স্বাধীন। গদ্য বললেই মনে হয় সার বেঁধে শব্দ দাঁড়িয়ে রয়েছে ।তারা একটা শৃঙ্খলায় রয়েছে। তাদের ভিতরে রয়েছে কিছু বোঝানোর , কিছু প্রমান করার তাগিদ। যদি এই দুটি থেকেও গদ্যকে মুক্ত করা যায়, তবে তার উদ্দেশ্যহীন বিক্ষিপ্ত চলন পাঠককে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় ঠেলে দ্যায়। হয়তো সেটাই লেখকের উদ্দেশ্য।
যারা মুলত কবি, কিন্তু মুক্ত গদ্য লিখতে চান,আমার ধারনায় তাঁরা একটি কবিতাই লিখে ফেলেন শেষ পর্যন্ত । কোন গল্পে যদি অনুভবের প্রকাশে কিংবা পরিপার্শ্ব চিত্রনে কবিতার আভাস পাওয়া যায়, পাঠক খুশি হয়। কিন্তু কবিতায় গল্পের প্রবেশ গভীর রহস্যময় জগতে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। এ প্রসঙ্গে অনেকেই অনেক বড় কবির অনেক কবিতার কথাই বলতে পারেন। হয়তো এই আলোচনায় মহাকাব্য ও চলে আসবে। কিন্তু কবিতার শিকড়ের খোঁজে সমকালীন কবিতা যেখানে পৌঁছেছে, সেখানে একথা উপেক্ষার নয়।
নিজের অনেক কথা যা এতকাল বলা হয়নি, তা মন খুলে বলার জন্য ও অনেকে মুক্তগদ্য লেখেন। তার চলন ভারী অদ্ভুত। মেঠো পথে চলতে চলতে রাজপথে কিংবা গলির ভিতর থেকে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়া । লেখাকে বিষয়হীন করে তোলার ভাবনায় লেখকের কোন দায় থাকেনা। কিন্তু মুক্তগদ্যের পাঠক কিছুতো খুঁজেই বেড়ান। পাঠ শেষে তার কাছে সারিবদ্ধ প্রশ্নচিহ্ন।
শ্যামলছায়া উকিলপাড়া জলপাইগুড়ির আড্ডা ঘরেও তো এমন কত লেখা পড়া হচ্ছে। মুক্তগদ্য নামে কখনো তা গল্পের হাত ধরে এগিয়েছে। কখনো কবির কবিতা লেখার উৎসমুখ থেকেই তার সৃষ্টি । যা গল্প বা কবিতা কোনটাই নয়, তাকে শুধু লেখা বলে উল্লেখ করছেন লেখক। কিন্তু এমন অনেক লেখাতেই কবিতা পাঠের স্বাদ পেয়েছি।
মুক্তগদ্যের ভাবনায় মুক্ত জীবনের কথাও মনে হল। জীবন থেকে মুক্ত হলে তো আমার অস্তিত্বই থাকেনা। হয়তো শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপনের থেকে মুক্ত জীবনের কথা ভেবেই এই ধারনা। সংসার জীবন থেকে নিজেকে মুক্ত করে উচ্চস্তরের সাধনার কথাও ভাবা যেতে পারে।
মুক্তি আসলে কি। একজন বন্দী মানুষ মুক্ত হন তখন তিনি যে আনন্দময় স্বাদ পান, তা একরকম। ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন যিনি সংসার চিন্তা থেকে মুক্ত হতে চাইছেন ,তার চিন্তা আর একরকম। মুক্ত হওয়া আর মুক্ত করা দুইই বড় কঠিন কাজ।
গদ্য মুক্ত হোক সমস্ত অনুশাসন থেকে । মনে হয় এই মুহূর্তে এটাই জরুরী।
No comments:
Post a Comment